Random Posts

Saturday, June 8, 2019

তিতা করলার অনেক গুন

তিক্ত স্বাদযুক্ত করলা বিভিন্ন অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও উপকারী ভিটামিনসমৃদ্ধ।স্বাস্থ্য উপকারিতা  উচ্চ রক্তচাপ ও চর্বি কমায়।


মানবস্বাস্থ্যের জন্য এই সবজির উপকারী গুণও কম নয়। তাই খাদ্যতালিকায় নিয়মিত করলা রাখুন। পুষ্টিবিদদের মতে করলার পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা অনেক।এলার্জি প্রতিরোধে এর রস দারুণ উপকারি। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি উত্তম। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে করলার রস খেলে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। করলায় যথেষ্ট পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন ছাড়াও এতে রয়েছে বহু গুণ।এতে থাকে ব্যাকটেরিয়ানাশক উপাদান যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।আর সঠিকভাবে রান্না করতে পারলে করলাও সুস্বাদু হতে পারে। এবার জেনে নিন, করলা কেন খাবেন।

ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত করলার রস খেলে উপকার পাবেন  

করলায় রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও রক্তের চিনি কমানোর উপাদান।করলা এডিনোসিন মনোফসফেট অ্যাকটিভেটেড প্রোটিন কাইনেজ নামক একধরনের এনজাইম বৃদ্ধি করে শরীরের কোষগুলোর চিনি গ্রহণের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। করলার রস শরীরের কোষের ভিতর গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়াও বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের চিনির পরিমাণ কমে যায়। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত করলার রস খেলে উপকার পাবেন। ডায়াবেটিসের রোগীরা রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত করলা খেতে পারেন।ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে করলার ব্যবহার লক্ষণীয়।করলার বিশেষ তিনটি উপাদান, যথা-  Charantin, Vicine, Polypeptide-p রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এই তিনটি উপাদান এককভাবে বা একত্রে রক্তে চিনির মাত্রা হ্রাস করে।তাই ডাক্তারগণ ডায়াবেটিস রোগীদের ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে এই ঘরোয়া চিকিৎসাটির সাহায্য নিতে পরামর্শ দেন। যারা প্রতিদিন সকালে খালি পেটে করলার রস থেকে অনেক উপকার পেতে পারেন।


অতিরিক্ত ওজনের কারণে কি চিন্তায় রয়েছেন?

তাহলে আজ থেকেই করলার রস খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন অল্প দিনেই ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। আসলে এই পানীয়টি লিভার ফাংশন বাড়ানোর পাশাপাশি হজম ক্ষমতার বৃদ্ধি ঘটায়। আর একবার যদি হজম ঠিক মতো হতে থাকে, তাহলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি জমার সুযোগই পায় না। ফলে ওজন হ্রাস পেতে শুরু করে।বিজ্ঞান পত্রিকা বিএমসি কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অলটারনেটিভ মেডিসিন’-এর রিপোর্ট বলছে, নানা পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ করলা খুব দ্রুত দেহের ওজন কমাতে সাহায্য করে। করলার রস দিয়ে হেলথ ড্রিঙ্ক বানিয়ে খেলে কাজ হয় খুব তাড়াতাড়ি।বর্তমান প্রজন্মের একটা বড় অংশ ওবেসিটির শিকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, করলার রস ফ্যাট সেলগুলো বার্ন করে এবং সেই জায়গায় নতুন ফ্যাট সেল তৈরি হতে বাধা দেয়।

  যদি খাবার  ঠিক মতো হজম হতে থাকে, তাহলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি  জমার সুযোগ পায় না, তাই দেহের ওজন হ্রাস পেতে শুরু করে। হজম ক্ষমতাও বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে এই করলা। তাই   করলার রস নিয়মিত খেলে অল্প দিনেই আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
শরীর কামড়ানি, জল পিপাসা বেড়ে যাওয়া, বমিভাব হওয়া থেকে মুক্তি পেতে উচ্ছে বা করলার পাতার রস উপকারী। এক চা চামচ করলা পাতর রস একটু গরম করে অথবা গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে ২ থেকে ৩ বার করে খেলে উপকার পাওয়া যায়।

করলা প্রাকৃতিক উপায়ে চুল পড়া বন্ধ করে।

করলার অন্তর্নিহিত গুণ চুলের যে কোনো সমস্যার সমাধানে সক্ষম। চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে এক কাপ করলার রসের সঙ্গে দই মিশিয়ে চুলে লাগানোর কিছু সময় পর ধুয়ে নিলে চুল চকচকে হয়।চুলের ডগা ফেটে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। এ থেকে মুক্তি পেতে সপ্তাহে দুদিন ফেটে যাওয়া চুলের ডগায় কাঁচা করলার রসের প্রলেপ দিলে সুফল পাওয়া যায়।

করলা প্রাকৃতিক উপায়ে চুল পড়া বন্ধ করে। এক চিমটি চিনির সঙ্গে করলার রস মিশ্রিত করে চুলে প্রলেপ দেওয়া হলে চুল পড়ার হার হ্রাস পায়।প্রতি ১০ দিনে একদিন পাকা চুলে করলার রস ব্যবহার করলে চুলের অকালপক্বতা ধীরে ধীরে কমে আসে।চুলের অতিরিক্ত তৈলাক্ততা দূর করতে করলার রস ও এপেল সিডার ভিনেগারের মিশ্রণ ব্যবহার করা যায়।

ব্রেস্ট ক্যানসারের জন্য দায়ী কোষসমূহকে ধ্বংস করতে। 

সাম্প্রতিক গবেষণার থেকে জানা যায় যে, ব্রেস্ট ক্যানসারের জন্য দায়ী কোষসমূহকে ধ্বংস করতে ও তাদের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে করলা বিশেষভাবে উপকারী।করলায় আছে যথেষ্ট লৌহ, ভিটামিন এ, সি এবং আঁশ। এন্টি অক্সিডেন্ট-ভিটামিন এ এবং সি বার্ধক্য বিলম্বিত করে। এছাড়া করলায় রয়েছে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সৃষ্টিকারী লুটিন এবং ক্যানসার প্রতিরোধকারী লাইকোপিন।যে ফ্রি র‌্যাডিকেল ড্যামেজের কারণে বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার হয়, তার বিরুদ্ধে এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কাজ করে।


শ্বাসরোগ দূর করে

করলার রসে আছে অনেক গুণ। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের দূষণ দূর করে। হজমপ্রক্রিয়ায় গতি বাড়ায়। পানির সঙ্গে মধু ও করলার রস মিশিয়ে খেলে অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস ও গলার প্রদাহে উপকার পাওয়া যায়।


হার্ট অ্যাটাক রোধ করে

করলা রক্তের চর্বি তথা ট্রাইগ্লিসারাইড বা টিজি কমায় আর বাড়ায় ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল। এতে নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিন করলা গ্রহণে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং প্রতিরোধ হয় রক্তনালিতে চর্বি জমার কারণে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা।


লিভার ফাংশনের উন্নতি ঘটে

ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ভিটামিন অ্যান্ড নিউট্রিশন পত্রিকায় প্রকাশিত একটি স্টাডি অনুসারে, করলা খাওয়া মাত্র শরীরে বিশেষ কিছু এনজাইমের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যার প্রভাবে লিভারের কর্মক্ষমতা বাড়তে সময় লাগে না। শুধু তাই নয়, করলায় উপস্থিত মোমরোডিকা নামক একটি উপাদান লিভার ফেলিওর হওয়ার সম্ভাবনাকেও কমায়। এই কারণেই তো যাদের প্রতিদিন মদ্যপান করার অভ্যাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত করলা খাওয়া পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা।

বিষমুক্ত হয় শরীর

আমরা কতদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকবো তা অনেকাংশেই নির্ভর করে রক্ত কতটা শুদ্ধ রয়েছে তার উপর। তাই তো সুস্থভাবে বাঁচতে রক্তের দেখভাল করাটা একান্ত প্রয়োজন। আর এই কাজটি করবেন কীভাবে? প্রতিদিন করলা খাওয়া শুরু করুন। তাহলেই উপকার মিলবে। কারণ এই সবজিটিতে উপস্থিত ব্লাড পিউরিফাইং এজেন্টরক্তকে পরিশুদ্ধ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

পাইলসের কষ্ট কমে

যাদের পাইলসের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়ম করে প্রতিদিন সকাল করলার রস খেতে পারেন যা আপনাকে খুব অল্পদিনের মধ্যেই পাইলসের যন্ত্র্না থেকে রেহাই দিবে।প্রতিদিন সকালে নিয়ম করে ১০০ গ্রাম করলা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন এক মাসেই পাইলসের যন্ত্রণা একেবারে কমে যাবে। আর যদি কাঁচা করলা খাওয়া পাশাপাশি করলা গাছের মূল বেটে নিয়ে সেই পেস্ট পাইলসের উপর লাগাতে পারেন, তাহলে আরও দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।

দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

কাঁচা করলা অথবা করলার রস খাওয়া শুরু করলে শরীরে প্রচুর মাত্রায় বিটা-ক্যারোটিনের প্রবেশ ঘটে, যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।  দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে বিটা ক্যারোটিন খুবই উপকারী। তাই যাদের চোখের সমস্যা আছে তাঁরা নিয়মিত করলা খেলে চোখ ভালো থাকবে। তাই তো বলি বন্ধু যারা দিনের বেশিরভাগ সময়ই কম্পিউটার বা মোবাইলে মাথা গুঁজে বসে থাকেন, তারা যদি চোখকে বাঁচাতে চান তাহলে নিয়মিত করলা খেতে ভুলবেন না যেন!

রক্তের সুগারের মাত্রা কমে।

করলা অ্যাডিনোসিন মনোফসফেট অ্যাকটিভেটেড প্রোটিন কাইনেজ নামক এনজাইমের মাত্রা বৃদ্ধির মাধ্যমে রক্ত থেকে শরীরের কোষগুলোতে সুগার গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এটি শরীরের কোষের গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়া বাড়ায় ফলে রক্তের সুগারের মাত্রা কমে।করলা রক্ত পরিস্কার করে। রক্ত দুষিত হলে অনেক সময় অনবরত মাথা ব্যাথা, এলার্জি, ক্লান্তি বৃদ্ধি পায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার হ্রাস পায়।দুই আউন্স করলার রসের সাথে অল্প লেবুর রস মিশিয়ে প্রতিদিন খালি পেটে একবার পান করুন। ৪ থেকে ৬ মাসের মধ্যে রক্তের দূষিত উপাদান দূর হয়ে যাবে এবং এলার্জি জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। রক্তের ইম্পিওরিটিসকে করলা পরিস্কার অথবা ডিটক্সিফাইং করতে সাহায্য করে।

ম্যালেরিয়ায় করলা পাতার রস

ম্যালেরিয়ায় করলা পাতার রস খেলে খুব উপকার মেলে। এছাড়া ম্যালেরিয়ার রোগীকে দিনে তিনটে করলার পাতা ও সাড়ে তিনটি আস্ত গোলমরিচ এক সঙ্গে থেঁতো করে নিয়ম করে ৭ দিন খাওয়ালে দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে। করলার পাতার রস খেলে জ্বর সেরে যায়। শরীর থেকে কৃমি দূর করতেও করলা কাজ করে।

দিনে দুটির বেশি করলা গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

তবে এত উপকারিতা থাকার পরও দিনে দুটির বেশি করলা গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। করলায় কিছু এলকালয়েড উপাদানের উপস্থিতির কারণে কারো কারো এর প্রতি অসহিষ্ণুতা দেখা দেয়। করলা থেকে সৃষ্ট বিষাক্ততার লক্ষণগুলো হলো অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ, মুখের লালচে ভাব, দৃষ্টির স্বল্পতা, পেট ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, বমি হওয়া, ডায়রিয়া, পেশির দুর্বলতা ইত্যাদি। করলাকে ১০ মিনিট লবণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে বা ফুটিয়ে নিলে এর তিক্ততা ও বিষাক্ততা বহুলাংশে হ্রাস পায়। গর্ভাবস্থায় করলার রস গ্রহণ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। করলার রেচক উপাদানগুলো জরায়ুর রক্তক্ষরণ, শিশুর অকালজন্ম ও গর্ভপাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। এ কারণে গর্ভাবস্থায় করলা গ্রহণের আগে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

 
 
 

 
 
 
 

 

 
 
 
 

Featured Post

ব্রোকলি