পুষ্টিবিদেরা ব্রোকলিকে দারুণ পুষ্টিকর সবজি বলেন।এতে প্রচুর ভিটামিন সি আছে এবং
ক্যালসিয়াম ও লৌহ বিদ্যমান রয়েছে। আমেরিকান ক্যানসার রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তালিকায়
ক্যানসার প্রতিরোধী দশম খাবার হিসেবে স্থান করে নিয়েছে ব্রোকলি।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের
ক্যালিফোনিয়া ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী সান্টা বারবার জানিয়েছেন, ব্রোকলিতে আইসোথিয়োসায়ানেটস নামে বিশেষ ধরনের যৌগ রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে
ভূমিকা রাখে। ব্রোকলি স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ যে ভূমিকা রাখে তা মোটামুটি আমাদের সবার
জানা। ভিটামিন-এ এর অভাবে আমাদের দেশের শিশুরা রাতকানা ও অন্ধত্ব রোগে ভোগে।
ব্রোকলি এই ভিটামিন-এ এর অভাব দূর করে শিশুদের রাতকানা
ও অন্ধত্ব রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে। এছাড়াও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও অস্থি বিকৃতি
প্রভৃতির উপসর্গ দূর করে।এক কাপ রান্না করা ব্রোকলিতে একটি কমলা লেবুর সমপরিমাণ ভিটামিন
সি থাকে। তাছাড়া এটি বিটা ক্যারটিনের উৎস হিসেবে কাজ করে। এতে আরও রয়েছে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৬, আয়রন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও জিংক।ব্রোকলিতে
রয়েছে অধিক পরিমাণে পটাশিয়াম, যা স্নায়ুতন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ করে একে সুস্থ আর
রোগমুক্ত রাখে।কপি গোত্রের অন্যান্য সবজির চেয়ে ব্রোকলি অপেক্ষাকৃত বেশি পুষ্টি সমৃদ্ধ পুষ্প মঞ্জুরি ভাজি, স্যুপ ও তরকারি হিসেবে খাওয়া যায়।তাহলে এবার চলুন জেনে নেয়া যাক কেন আমাদের খাদ্য
তালিকায় এর গুরুত্ব অপরিসীম আর এর থেকে আমরা কি কি পুষ্টিগুন বা স্বাস্থ্য উপকারিতা
পেতে পারি।
স্তন ও প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে
ব্রোকলি স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ যে ভূমিকা রাখে
তা মোটামুটি আমাদের সবার জানা।বর্তমান সময়ে ক্যান্সার একটি খুব ভয়ংকর মরণ ব্যাধি আর
ব্রোকলি এই রোগ প্রতিরোধে আমাদের শরীর কে সহায়তা করে এবং ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধিতে
বাধা সৃষ্টি করে ।ইনডোল-৩-কার্বিনোল
নামে একটি অতি শক্তিশালী এন্টি অক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে এই ব্রোকলিতে, যা সার্ভিকল ও অগ্রগ্রন্থ্রির ক্যান্সার এবং লিভার
ফাংশন এর উন্নতি সাধণ করে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোনিয়া ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী
সান্টা বারবার জানিয়েছেন, ব্রোকলিতে আইসোথিয়োসায়ানেটস
নামে বিশেষ ধরনের যৌগ রয়েছে যা ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে।ব্রকলিতে প্রচুর আঁশ
ও পানি থাকায় এটি দ্রুত কোলন পরিষ্কার করে এবং কান্সার প্রতিরোধ করে।এর বিটা ক্যারোটিন
ও সেলিনিয়াম বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার যেমন, ফুসফুস, যকৃত, প্রোস্টেট, কোলন ও প্যানক্রিয়াটিক
ক্যান্সারের আক্রমন থেকে রক্ষা করে
।
লেবুর দ্বিগুণ ও আলুর সাত গুণ ভিটামিন সি ব্রোকলিতে
এন্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ব্রোকলিতে থাকা
ভিটামিন সি ত্বক সুন্দর করে।তারুন্য ধরে রাখতে ও দ্রুত বৃদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করে। ব্রোকলিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে
এবং এতে ফ্ল্যাভোনয়েড ও থাকে যা ভিটামিন সি কে ব্যবহারের জন্য উপযোগী করে তুলে। এছাড়াও
আরো কিছু শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন-
ক্যারোটিনয়েড লুটেইন, জিজান্থিন এবং বিটা ক্যারোটিন ও প্রচুর পরিমাণে
থাকে ব্রোকলিতে।শরীরে সক্রিয় অক্সিজেন প্রতিরোধ করে ও বিষমুক্ত করে।ব্রোকলি একটি ভালোমানের
শর্করা এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবারও থাকে যা হজমে সাহায্য করে।রক্তের চিনির পরিমাণ
নিয়ন্ত্রণ করে এবং অধিক খাওয়ার অভ্যাস দমন
করে। এছাড়া এতে ডায়াটারি আঁশ থাকায় কোষ্ঠকাঠিণ্য প্রতিরোধ করে।
হার্টের জন্য ব্রোকলি
সালফোরাফেন নামক প্রদাহনাশক উপাদান ব্রোকলিতে থাকে
যা এক ধরণের আইসোথায়োসায়ানেট (ITCs) । রক্তে দীর্ঘমেয়াদী চিনির সমস্যার কারণে যে প্রদাহ হয় তার কারণে রক্তনালীর ক্ষতি
হয়। রক্তনালীর এই ধরণের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে পারে সালফোরাফেন।প্রতিদিন ব্রোকলি খেলে
তা রোগ প্রতিরোধের মাধ্যমে আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধণ করতে সহায়তা করবে। এতে প্রাপ্ত
ভিটামিন বি৬ হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকেরও ঝুঁকি কমায়।চা ও আপেলের পাশাপাশি ব্রোকোলিও
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
হাড়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
ব্রোকলিতে উচ্চমাত্রার ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন কে
থাকে।ভিটামিন ‘কে’ রক্ত জমাট বাঁধায়
সাহায্য করে। এই উভয় উপাদানই হাড়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অষ্টিওপোরোসিস প্রতিরোধেও
সাহায্য করে।যারা অস্টিওপোরোসিসের (হাড় ক্ষয়) ঝুঁকির মধ্যে তাদের ক্ষতির পরিমাণ কমাতে
যেন ব্রোকলি ব্যবহার করা হয়।
শিশুদের রাতকানা ও অন্ধত্ব রোগ থেকে রক্ষা করতে
ভিটামিন-এ এর অভাবে আমাদের দেশের শিশুরা রাতকানা
ও অন্ধত্ব রোগে ভোগে। ব্রোকলি এই ভিটামিন-এ
এর অভাব দূর করে শিশুদের রাতকানা ও অন্ধত্ব রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে।
গ্যাসট্রিক অ্যালসার
গ্যাসট্রিক আলসার ও গ্যাসট্রাইটিস প্রতিরোধে দারুণ
কার্যকর ব্রোকলি। বাঁধাকপির চেয়ে এতে অনেক বেশি ভিটামিন ইউ (মেথিওনাইনের উপজাত) থাকে।
এতে সালফরাফেন নামের উপাদান থাকে যা গ্যাসট্রিক অ্যালসার ও ক্যানসার প্রতিরোধ করে।ব্রোকলির
মধ্যে পানি অনেক বেশি পরিমানে থাকে। আবার বেশি পরিমানে আঁশও থাকে, ক্যাম্ফেরল শরীরের অ্যালার্জির সাথে সম্পর্কিত পদার্থ কমাতে সাহায্য করে।
